দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের

আমেরিকা না চীন? কার ব্লকে ঢুকবে বাংলাদেশ?

অজানা রহস্য আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সম্পুর্ন পৃথিবী ২টি বলয়ে ভাগ হয়ে যায়
১) আমেরিকান বলয়
২) সোভিয়েত বলয়
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত এই দুই বলয় ছিল চোখে পড়ার মত। দুই বলয়ের দেশগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক জোট করেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পুরো পৃথিবীতে একচ্ছত্রভাবে আমেরিকা একচেটিয়াভাবে দাদাগিরী চালাচ্ছে।
গত শতকের ৯০ এর দশক থেকে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামরিক উন্নয়নের ফলে চীন এই মুহুর্তে বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীন এশিয়া – প্যাসিফিকে এতই প্রভাব বাড়াচ্ছে যে, খোদ আমেরিকা, জাপান, দক্ষিন কোরিয়ার মত শক্তিশালী দেশগুলোও চীনের প্রভাবে উদ্বিগ্ন। চীন এশিয়া – প্যাসিফিক অঞ্চল ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়ার রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত। বাংলাদেশ তার নিজের স্বার্থেই বহুমাত্রিক পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বানিজ্যিক অংশীদার, অন্যদিকে আমেরিকা, ই ইউ, জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার আর আর্থিক সহায়তাকারী দেশ।
৭৫ এর পরবর্তী সময় চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। চীনের সাথে বরাবরই আমাদের মধুর সম্পর্ক ছিল। চীন বানিজ্যিক সহযোগী ছাড়াও আমাদের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় সহযোগী দেশ হচ্ছে চীন। এছাড়াও আমাদের বড় বড় মেগা প্রজেক্টে চীনের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।
কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বন বাংলাদেশকে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবার ভাবতে বাধ্য করে।
সেই বিপদের মুহূর্তে আমেরিকা আর ন্যাটো জোট বাংলাদেশকে নজিরবিহীনভাবে সমর্থন করে। বাংলাদেশ তখন তার পশ্চিমা মুখী কুটনীতি নিয়ে আরেকবার চিন্তা করে। এছাড়াও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিশাল বাজার পশ্চিমাদের নজর কাড়ে। তারাও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠে।
কিন্তু বরাবরই একটা কথা কুটনৈতিক মহলে উঠতো, যে বাংলাদেশ কি আমেরিকা – ন্যাটো বলয়ে ঢুকবে নাকি চীনের বলয়েই থেকে যাবে? বা কোন বলয়ে যোগ দিলে লাভ হবে বাংলাদেশের?
চীন এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক আর অবকাঠামোতে বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশ যদি চীনকে পাশ কাটিয়ে আমেরিকার পক্ষ অবলম্বন করে তাহলে আমরা আর চীনের দরাজ বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হব। যা আমাদের এই মুহুর্তে খুব প্রয়োজন।
অন্যদিকে আমেরিকা ইউরোপ আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ইউরোপ আমেরিকা থেকে আমরা বিশ্ব সেরা অস্ত্র কিনতে পারি। এছাড়াও আমেরিকা জোটের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলে বিশ্ব ব্যাংক,এডিবি,জাইকার মত অর্থনৈতিক অংশীদার পাব। এছাড়াও বিপুল পশ্চিমা বিনিয়োগ তো আছেই।
আমরা এই মুহুর্তে চাইলেই কাউকে উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। আমাদের অন্তত এই দশক ব্যালেন্স করে চলতে হবে। তারপর সময়ই বলে দিবে, কোন বলয় অনুসরণ করব আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.