নিজেকে ভালোবাসুন, তাহলেই জীবনে সফল হবেন!

লাইফস্টাইল

আমাদের বাঁচার জন্য চাই খাদ্য, বাসস্থান ও বস্ত্র। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য মানুষ সারা দিন ছুটে বেড়ায় সফলতার খোঁজে। প্রিয়জনের চাহিদা পূরণ করতে এবং প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে মানুষ এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এগুলোর জন্য প্রয়োজন অর্থ। এজন্য মানুষ এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্য, ভালো লাগার কথাই ভুলে যায়। অনেক সময় আবার আটকে পড়তে হয় ব্যর্থতার বৃত্তে।ফলে জেঁকে বসে খারাপ লাগা।

এই খারাপ লাগা থেকে বের হয়ে আসতে পারে যদি মানুষ নিজেকে ভালোবাসতে শিখে, তখনই ব্যর্থতার অন্ধকার বৃত্ত থেকে বের হয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে। জীবনে অন্যকে ভালোবাসার থেকে সহজ কাজ হলো নিজেকে ভালোবাসা।

 

অনেকে মনে করেন, নিজেকে ভালোবাসা স্বার্থপরতা। তবে নিজেকে ভালোবাসা স্বার্থপরতা নয়, বরং এর মাধ্যমে যেমন নিজের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়, ঠিক তেমন নিজের প্রতি আস্থা এবং নিজের ভালো গুণাগুণ সম্পর্কে জানা হয়। আর এতেই আসে জীবনের সফলতা।

 

চলুন, জেনে নেওয়া যাক নিজেকে ভালোবেসে জীবনে সফল হবার কয়েকটি উপায়—

১. নিজেকে জানুন

একজন ব্যক্তি যদি নিজের সম্পর্কে ভালোভাবে না জানেন, তবে তিনি কখনোই নিজেকে ভালোবাসতে পারবেন না। তাই নিজের পছন্দ জানতে হবে, আস্থা রাখতে হবে এবং নিজেকে মূল্যায়ন করতে হবে।

 

২. না বলা শিখুন

কোনো কাজ আপনার পছন্দ না হলে ‘না’ বলুন। অপছন্দের কাজকে আপনি যদি ‘না’ বলতে না পারেন, তাহলে কাজের প্রতি অভক্তি কাজ করবে। একই সঙ্গে সেই কাজটাও তুলনামূলক খারাপ হবে।

 

 

৩. অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা নয়

মনে রাখবেন, পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষ আলাদা। সবার কাজের ধরন ভিন্ন। তাই নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. বাস্তববাদী হোন

আমাদের জীবনে বিভ্রান্তিকর অনেক ‍কিছুই ঘটে। সঠিক তথ্য জেনে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

৫. নিজের শক্তি তার ব্যবহার জানতে হবে

প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আশ্চর্যজনক কিছু শক্তি বিদ্যমান। আমরা জীবনযুদ্ধে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে সেগুলো খেয়াল করি না। এ ছাড়া আপনি যখন ব্যস্ত থাকেন এবং বিভ্রান্ত হন, তখন এই দুর্দান্ত গুণগুলোর ব্যবহার করতে পারেন না। তাই নিজের শক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ, এতে আপনার মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি কাজ করবে।

 

 

৬. নিজেকে উপহার দিন

কোনো ভালো কাজ বা সফলতার জন্য নিজেকে উপহার দিন। শুধু উপহার না, বরং কোনো সফলতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেও ভালো রাখতে পারবেন।

৭. সৎ থাকুন

নিজের প্রতি সৎ থাকা তুলনামূলক কঠিন কাজ। কেননা নিজেদের অজান্তেই আমরা অনেক সময় নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করে থাকি। সততা সব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

 

আপনার মধ্যে যদি মিথ্যা বলার কিংবা অজুহাত দেওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে আপনি কখনোই সম্পূর্ণরূপে নিজেকে ভালোবাসতে পারবেন না। কারণ, সত্যিকার অর্থে আত্মপ্রেম মানে দায়িত্ব এবং জবাবদিহি নেওয়া।

 

৮. নিজেকে দোষারোপ বন্ধ করুন

কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই কোনো ভুল ও ব্যর্থতার জন্য নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন। নিজের প্রতি যতটুকু সম্ভব নরম হন। নিজের প্রতি সহনশীল এবং উদার হন। মনে রাখতে হবে, ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং ব্যর্থতা জীবনের অংশ। এতে আপনি নিজেকে জানতে ও চিনতে পারবেন।

 

৯. নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন

বড় ধরনের ভুলের কারণে অনেক সময় আমরা অনুশোচনা করি। এ জন্য অনুশোচনা না করে নিজেকে ক্ষমা করতে হবে। ধরে নিতে হবে আপনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কখনোই নিজের অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে তুলনা করবেন না। মনে রাখবেন, আমরা নিজেকে যতটা ভালো বুঝি, ততটা ভালো কাজ করি।

 

১০. অনেকেই পছন্দ করবে না, মানতে শিখুন

সবাই যে আপনাকে ভালোবাসবে কিংবা পছন্দ করবে—এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। অনেকেই আপনাকে অপছন্দ করতে পারে। তাই এসব মানুষের পেছনে সময় অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন।

১১. সাপ্তাহিক রুটিনে বিনোদনমূলক কিছু রাখুন

সাপ্তাহিক রুটিনে মজার কিছু রাখার চেষ্টা করুন। কেননা সাপ্তাহিক কাজের ধকলের পর নিজেকে একটু বিনোদন দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার জীবনে বিশ্রামের মতোই কাজ করবে এবং কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে আরও বেশি সক্রিয় করে তুলবে।

 

১২. কৃতজ্ঞতা জানাতে শিখুন

জীবনে ভালো কিছুর দিকে লক্ষ্য স্থির করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কৃতজ্ঞতা জানানো। আপনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনটি জিনিস শনাক্ত করুন, যার প্রতি আপনি কৃতজ্ঞ।

 

১৩. নিজের সফলতাগুলো লিখুন

নিজেকে ভালোবাসার জন্য এটি খুবই উপযোগী একটি মাধ্যম। এতে যখন হতাশাগ্রস্ত হবেন, তখন নিজের সফলতার তালিকা দেখে উজ্জীবিত হতে পারবেন। তাই নিজের সফলতার একটি তালিকা তৈরি করুন।

 

১৪. অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করুন

অনুভূতি আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজের অনুভূতি অনুভব না করে আপনি একজন খাঁটি ব্যক্তি হতে পারবেন না। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করা মানে হলো নিজের অংশকে অস্বীকার করা।

 

১৫. স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হন

স্বাস্থ্যই অমূল্যবান মানবসম্পদ। নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ব্যায়াম করুন, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, পানি পান করুন এবং রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.