আবহাওয়ার খামখেয়ালি আচরণে দেশজুড়ে এখন ঋতু পরিবর্তনের হাওয়া। কখনো তীব্র গরম, আবার কখনো হুট করে বৃষ্টি বা ঠাণ্ডা বাতাস—এমন খিটখিটে আবহাওয়ার কারণে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি, কাশি ও ভাইরাসের প্রকোপ। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের মৌসুমি রোগবালাই থেকে বাঁচতে অ্যান্টিবায়োটিক বা অতিরিক্ত ওষুধের চেয়ে সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাত্রাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে মেনে চলতে পারেন সহজ ৫টি
নিয়ম:১. পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবারশরীরে পানির ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। তাই এই সময়ে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস নিরাপদ পানি পান নিশ্চিত করুন। পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। সাধারণ পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা হালকা গরম স্যুপ খেতে পারেন, যা গলার খুসখুসে ভাব দূর করতেও বেশ কার্যকর।
নিয়ম-২. খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলভাইরাসজনিত ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানো জরুরি। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-সি যুক্ত টক জাতীয় ফল রাখুন। প্রতিদিন একটি করে লেবু, আমলকী, পেয়ারা, মাল্টা বা আমরা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এগুলো শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি কমায়।
নিয়ম-৩. বাইরের খোলা ও বাসি খাবার পরিহারআবহাওয়ার এই তারতম্যের কারণে খাবারে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। এই সময়ে পেটের গোলমাল, ফুড পয়জনিং এবং ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তাই রাস্তার ধারের খোলা খাবার, ফুচকা-চটপটি বা বাসি খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। সবসময় ঘরের তৈরি ফ্রেশ এবং গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
নিয়ম-৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ৭-৮ ঘণ্টার ঘুমঅনেকেরই ধারণা নেই যে কম ঘুমালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। শরীর যখন কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন তার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। তাই রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করে প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন।
নিয়ম-৫. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও হাত ধোয়ার অভ্যাসঅধিকাংশ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ছড়ায় অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে, খাওয়ার আগে এবং গণপরিবহন ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। এছাড়া পকেটে সবসময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে পারেন। হাঁচি বা কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
যমুনা চিকিৎসকের পরামর্শ:মৌসুমি জ্বর-কাশি সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। তবে যদি জ্বরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেশি হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় কিংবা ৩ দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে কোনো ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কিনে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।