অতিমারি করোনা এবং বর্তমান বাংলাদেশ যেখানে দাঁড়িয়ে

অতিমারি করোনা এবং বর্তমান বাংলাদেশ যেখানে দাঁড়িয়ে

দিনকাল বাংলাদেশ
যমুনা ওয়েব ডেস্কঃ  বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের জেলাগুলি করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত । করোনার শুরুতে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চিটাগাঙে রোগীর পরিমান বেশী থাকলেও জেলা শহরগুলোতে রোগীর পরিমান ছিল হাতে গোনা। সময়ের সাথে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, ভারতের করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে বাংলাদেশের বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলের জেলাগুলো।
গত ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরা জেলায় শনাক্তের হার বেড়ে ৫৩.১৯ শতাংশ, করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৪। বেনাপোল ও শার্শায় শনাক্তের হার ৭৩.৩৩ শতাংশ। সারাদেশে ৮২ জনের মৃত্যু হলেও খুলনা বিভাগে ৩২ জন। বাগেরহাট জেলায় ২৫২ টি টেস্টের মধ্যে ৯৭ টি পজিটিভ। ৩ জনের মৃত্যু। ঝিনাইদহ জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা বিভাগের পাশাপাশি বরিশাল বিভাগেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পূর্বেদিন করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৫৬ জনের সেখানে গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছে ৬৯ জনের। বরিশাল বিভাগের বরিশাল ও পিরোজপুর জেলায় করোনা শনাক্তের হার বেশী। পিরোজপুরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে করোনার শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২২.৩১ শতাংশ রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনাশনাক্তের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিনাঞ্চল বিশেষ করে সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেলা পর্যায়ে যে আক্রান্ত তার থেকে স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা রয়েছে। এমনিতে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা রাজধানী ভিত্তিক। কোভিডের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের মধ্যেও রয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল। তারই মধ্যে মানুষজন কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে জনাসমাগম ঘটাচ্ছে।
কোভিডের কারনে সারাদেশের বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকলেও অভিজাতদের ক্লাবগুলো চলছে সমানতালে। তারই দেখা মেলে বাংলাদেশে আলোচিত এক নায়িকার ঘটনায়। যেখানে মানুষের জীবন প্রতিমুহুর্তে হারাচ্ছে সেখানে এই সকল ব্যক্তিদের কর্মকান্ড মানসিকতার প্রশ্ন তোলে।সংক্রমণ রোধে সরকারের বিভিন্ন নিদের্শনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। মাসের পর ঘোষিত লকডাউনে সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। বাগেরহাট জেলার সবথেকে ঝুকিতে থাকা মোংলা উপজেলায় হাটবাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
বাংলাদেশে এ মুহুর্তে ৪৮ জেলাকে উচ্চ সংক্রমণ ও ২২ জেলাকে অতিউচ্চ সংক্রমণের জেলা হিসাবে দেখা হচ্ছে। কোন কোন স্থানে স্থানীয়ভাবে লকডাউন হলেও জাতীয় লকডাউন না হলে তা মানা সম্ভব নয়। কারন প্রত্যেকটি স্থানের সাথে জাতীয়ভাবে চলাচল সহ সকল কার্যক্রম বিদ্যমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.