পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট বরাদ্দ একটা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ব্যাপার!

দিনকাল বাংলাদেশ

আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনে আসন্ন বাজেটে ‘ক্ষুদ্র অর্থনীতি : প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্না বলেছেন, ‌‘কতোগুলো বিষয়ে রিফর্ম (সংশোধন) বা হাত দেওয়া দরকার। শিক্ষার রিফর্ম করা দরকার। তবে আমি মনে করি এনবিআর ঢেলে সাজানো দরকার। এটা আমি সব সময় বলে এসেছি। টাইম এখন আমাদের জন্য। এখনই এটা রিফর্ম করা দরকার।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কতগুলো কালচারাল বিষয় আছে যেটা গণতান্ত্রিক দেশে থাকা উচিত নয়। এটা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। কী পরিমাণে টাকা শহরে মাথাপিছু ব্যয় করা দরকার, কী পরিমাণে গ্রামে মাথাপিছু ব্যয় করা দরকার এটা বের করা উচিত। এটা নিয়ে বিচার বিবেচনা করা দরকার।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। ‘বাজেট বরাদ্দ একটা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ব্যাপার। ঐতিহাসিকভাবে এটা সত্য কিছু কায়েমি স্বার্থ আছে। এটা হঠাৎ করেই কেটে ছোট করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেও সম্ভব নয়। তবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি এটা ভাঙার জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চেষ্টা করছেন। আমি তার কাছ থেকে দেখছি। ঐতিহাসিক কিছু বিষয় থেকে তিনি বের হওয়ার চেষ্টায় আছেন।’

‘উৎপাদিত বিষয় ছাড়া ব্যয় কঠিন। আমি একজন বয়স্ক মানুষ, এটা নিয়ে আমার আপত্তি আছে। অহেতুক ব্যয় কেন? এটা তো তেলা মাথায় তেল দেওয়া। নাগরিক সমাজ ব্যবসায়ী সমাজ থেকে বার বার চাপ আসবে। সরকারও চাপে থাকে। আপনারা স্টাডি রাখবেন। বুলেট ফর্মে প্রস্তাব দেবেন। এগুলো আমরা পাঠাব। কী হয় না হয় এই গ্যারান্টি আমার নেই।’

প্রাইভেট সেক্টর প্রসঙ্গে এম এ মান্না বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। শেখ হাসিনার সঙ্গে আমরাও পাশে থাকব। প্রাইভেট খাতে আরও স্বাধীনতা দরকার। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য, প্রাইভেট সেক্টরকে বেশি স্বাধীনতা দিতে পারিনি। রেমিট্যান্স আমাদের জন্য আশীর্বাদ। অথচ যারা বিদেশে লোক পাঠায় তাদের আমরা আদম ব্যাপারী বলি। তাদের সামাজিকভাবে ধ্বংস করে ফেলি।’

যৌথভাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। এতে অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান সভাপতি মো. আসিফ ইব্রাহিম ও ইআরএফ’র সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবি’র সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন ও ইআরএফ’র সভাপতি শারমীন রিনভী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.